জীবনানন্দ দাশের কবিতা- সহজ

জীবনানন্দ দাশের কবিতা -"সহজ"

সহজ -জীবনানন্দ দাশ: জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তাঁর জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন। 


আমার এ-গান
কোনোদিন শুনিবে না তুমি এসে, –
আজ রাত্রে আমার আহ্বান 
ভেসে যাবে পথের বাতাসে, –
তবুও হৃদয়ে গান আসে। 
ডাকিবার ভাষা

তবুও ভুলি না আমি, –
তবু ভালোবাসা
জেগে থাকে প্রাণে, 
পৃথিবীর কানে 
নক্ষত্রের কানে 
তবু গাই গান; 

কোনোদিন শুনিবে না তুমি তাহা,–জানি আমি – 
আজ রাত্রে আমার আহ্বান 
ভেসে যাবে পথের বাতাসে, 
তবুও হৃদয়ে গান আসে! 

তুমি জল–তুমি ঢেউ–সমুদ্রের ঢেউয়ের মতন 
তোমার দেহের বেগ—তোমার সহজ মন । 
ভেসে যায় সাগরের জলের আবেগে;
কোন্ ঢেউ তার বুকে গিয়েছিল লেগে 

কোন্ অন্ধকারে 
জানে না সে;—কোন্ ঢেউ তারে 
অন্ধকারে খুঁজিছে কেবল 
জানে না সে; রাত্রির সিন্ধুর জল, 

রাত্রির সিন্ধুর ঢেউ 
তুমি একা; তোমারে কে ভালোবেসে!—তোমারে কি কেউ 
বুকে করে রাখে। 
জলের আবেগে তুমি চলে যাও, 
জলের উচ্ছ্বাসে পিছে ধূ-ধূ জল তোমারে যে ডাকে!  

তুমি শুধু একদিন,—এক রজনীর;– 
মানুষের—মানুষীর ভিড় 
তোমারে ডাকিয়া লয় দূরে,কত দূরে— 
কোন্ সমুদ্রের পারে,–বনে—মাঠে কিম্বা যে-আকাশ জুড়ে 
উল্কার আলেয়া শুধু ভাসে! 

কিম্বা যে-আকাশে 
কাস্তের মত বাঁকা চাঁদ 
জেগে ওঠে,–ডুবে যায়, তােমার প্রাণের সাধ।

তাহাদের তরে; 
যেখানে গাছের শাখা নড়ে 
শীত রাতে,—মড়ার হাতের শাদা হাড়ের মতন 

যেইখানে বন
আদিম রাত্রির ঘ্রাণ
বুকে ল’য়ে অন্ধকারে গাহিতেছে গান– 

তুমি সেইখানে। 
নিঃসঙ্গ বুকের গানে 
নিশীথের বাতাসের মত 
একদিন এসেছিলে 
দিয়েছিলে এক রাত্রি দিতে পারে যত!

জীবনানন্দ দাশের কবিতা


Share: